ট্রাম্প এবং স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন

0
601

গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের সংকটপূর্ণ দৃশ্য যখন একটি সংকটপূর্ণ বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে তখন আমি দার্শনিক নোয়াম চমস্কির দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিইতাঁর লেখা, বক্তৃতা ও অ্যাক্টিভিজম ৫০ বছরের বেশি সময় যাবত আমেরিকান ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অতুলনীয় অন্তর্দৃষ্টি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। আমাদের কথোপথন এখানে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, সেটা গত দুই মাস ধরে ইমেইল আদান-প্রদানের একটি সিরিজ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে। যদিও অধ্যাপক চমস্কি অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন, তারপরও আমাদের মধ্যকার পূর্ববর্তী বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার কারণে তিনি অনুগ্রহপূর্বক এই সাক্ষাৎকারের জন্য সময় দিয়েছেন।

অধ্যাপক চমস্কি অনেক বহুল বিক্রিত রাজনৈতিক গ্রন্থের রচয়িতা, যেগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর সবচেয়ে সাম্প্রতিক বইগুলোর মধ্যে আছে “হেজেমনি অর সারভাইভাল,” “ফেইল্ড স্টেটস,” “হোপস অ্যান্ড প্রসপেক্টস,” “মাস্টার্স অফ ম্যানকাইন্ড,” এবং “হু রুলজ দ্য ওয়ার্ল্ড?” তিনি ১৯৭৬ সাল থেকে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-তে এমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে আছেন।

–জর্জ ইয়ান্সি

ট্রাম্প এবং স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন - নোয়াম চমস্কি
নোয়াম চমস্কি – ট্রাম্প এবং স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন

জর্জ ইয়ান্সিঃ আমাদের “পোস্ট-ট্রুথ” রাজনৈতিক জমানায় এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে আমরা যে ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদ দেখতে পাচ্ছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে পেশাদার দর্শনশাস্ত্র এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কী ধরনের সর্বজনীন ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

নোয়াম চমস্কিঃ  পারমাণবিক বোমা দিয়ে মাছি না মারার ব্যাপারে আমাদের একটু সচেতন হতে হবে। “পোস্ট ট্রুথ” সময়ের প্রসঙ্গে বলা যায়, কার্যকলাপগুলো এতটাই অদ্ভূত যে উপহাসই হতে পারে একমাত্র যথার্থ উত্তর। উদাহরণস্বরূপ, স্টিফেন কোলবার্টের সাম্প্রতিক মন্তব্যটি যথাযথ হয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান আইনসভা সমুদ্রপৃষ্ঠের বিপজ্জনক উচ্চতা বৃদ্ধির পূর্বানুমান করে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রতিক্রিয়ায় সমস্যাটিকে মোকাবিলা করার জন্য নীতিমালা তৈরি ও নথিপত্র পরিকল্পনার কাজে রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় সংস্থাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তখন কোলবার্ট তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান। বিজ্ঞান যদি আপনার পছন্দমতো ফলাফল না দেয় তাহলে সেই ফলাফলকে অবৈধ ঘোষণা করে আইন পাশ করুন। ঝামেলা চুকে গেলো।”

খুব সাধারণভাবে, সমাজবদ্ধ মানব অস্তিত্বের টিকে থাকার প্রতি কার্যত যে অস্তিত্বগত হুমকি রয়েছে সেটাকে ট্রাম্প প্রশাসন মোকাবিলা করে এভাবেঃ নীতিমালা ও এমনকি পরিবেশগত হুমকির গবেষণা ও আলোচনা নিষিদ্ধ করা এবং যত দ্রুত সম্ভব কানাগলির দিকে ছুটে যাওয়া (স্বল্প মেয়াদী মুনাফা ও ক্ষমতার স্বার্থে)।

জর্জ ইয়ান্সিঃ এই ক্ষেত্রে ট্রাম্পবাদকে আমার কাছে কিছুটা আত্মঘাতী মনে হয়।

নোয়াম চমস্কিঃ অবশ্যই উপহাস করাটাই যথেষ্ট নয়। যারা জালিয়াতির শিকার হয় অথবা যারা অন্যান্য কারণে ইস্যুগুলোর প্রকৃতি ও তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে না, তাদের বিশ্বাস ও উদ্বেগকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। দর্শন বলতে আমরা যদি যৌক্তিক ও চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণকে বুঝে থাকি তাহলে এটি “বিকল্প তথ্য”-এর মুখোমুখি না হয়েও যেটা ঝুঁকির মধ্যে আছে, যে ইস্যুই হোক না কেন, তাকে বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে সময়কে চিহ্নিত করতে পারে। তার চেয়েও বেশি যেটা দরকার তা হলো পদক্ষেপ। আমাদের সামনে যে পথগুলো খোলা আছে তার মধ্য দিয়ে জরুরী ও নিবেদিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

জর্জ ইয়ান্সিঃ ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গে দশর্নের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ছাত্র থাকার সময় সেখানে আমি বিশ্লেষণমূলক ঐতিহ্যে প্রশিক্ষিত হয়েছিলাম। সে-সময় ধারণার ব্যাখ্যা দেওয়ার বাইরে দর্শন বলতে কী বুঝায় সেই বিষয়ে আমার পরিষ্কার ধারণা ছিলো না। তবুও আমি মার্ক্সীয় অবস্থানকে আঁকড়ে ধরেছিলাম যে, দর্শন পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে। দুনিয়া বদলে দেওয়ার ব্যাপারে দর্শনের সক্ষমতাকে নিয়ে আপনার কোনো ভাবনা আছে?

 

আমাদের অস্তিত্বের প্রতি যেসব হুমকি দেখা দিয়েছে সেগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, যেমন জলবায়ু পরিবর্তন ও পারমাণবিক যুদ্ধ

 

নোয়াম চমস্কিঃ মার্ক্স যখন লিখেছিলেন যে “দার্শনিকরা এখন পর্যন্ত কেবল বিভিন্ন উপায়ে পৃথিবীকে ব্যাখ্যা করেছেন; এখন একে বদলাতে হবে” তখন তিনি কী চিন্তা করেছিলেন সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। তিনি কি এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে দর্শন পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে, নাকি পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার উচ্চতর অগ্রাধিকারের দিকে দার্শনিকদের নজর দেওয়া উচিত? যদি প্রথমটা হয় তাহলে তিনি সম্ভবত পৃথিবীকে কেন ও কীভাবে পরিবর্তন করা উচিত সে-সম্বন্ধে সামাজিক ব্যবস্থা ও ধারণাসমূহের বিশ্লেষণসমেত দর্শন শব্দটিকে এর একটি বিস্তৃত অর্থে বুঝিয়েছেন। সেই বিস্তৃত অর্থ অনুযায়ী পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে দর্শনের একটি ভূমিকা আছে, প্রকৃতপক্ষে একটি প্রয়োজনীয় ভূমিকা আছে এবং বিশ্লেষণমূলক ঐতিহ্যের অনুশীলনকারীসহ সকল দার্শনিক তাঁদের দর্শনগত কাজের পাশাপাশি তাঁদের সক্রিয় কর্মী জীবনেও সেই উদ্যোগ নিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে একটি বিখ্যাত দৃষ্টান্ত হিসেবে বার্ট্রান্ড রাসেলের কথা বলা যায়।

জর্জ ইয়ান্সিঃ হ্যাঁ। রাসেল ছিলেন একজন দার্শনিক ও জনসাধারণের বুদ্ধিজীবী। এই শব্দগুলোর মাধ্যমে আপনি নিজেকে কীভাবে বর্ণনা করবেন?

নোয়াম চমস্কিঃ অকপটে যদি বলতে হয় তাহলে বলবো যে, আমি সত্যিই এটা নিয়ে চিন্তা করি না। আমি সেই ধরনের ধরনের কাজ ও কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করি যা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। এর মধ্যে কিছু জিনিস এসব ক্যাটাগরিতে পড়ে, যেটা সাধারণভাবে বুঝা যায়।

জর্জ ইয়ান্সিঃ অনেক সময় মানবিক দুর্দশার পুরোদস্তর মাত্রাকে অসহনীয় মনে হয়। পৃথিবীতে এত পরিমাণ দুর্দশা নিয়ে যেহেতু আপনি কথা বলেন, আপনি কীভাবে এর সাক্ষ্য বহন করেন এবং তা সত্ত্বেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি বজায় রাখেন?

নোয়াম চমস্কিঃ স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করাটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রেরণা যোগায়। আর দরিদ্র ও যন্ত্রণাক্লিষ্ট মানুষেরা আমাদের চেয়ে তুলনাহীনভাবে খারাপ পরিস্থিতিতে যে শান্তভাবে ও অকপটভাবে ন্যায়বিচার ও মর্যাদার জন্য সাহসী ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সংগ্রাম চালিয়ে যায়, সেটা দেখার চেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক আর কিছু হতে পারে না।

জর্জ ইয়ান্সিঃ আপনাকে যদি ট্রাম্পের শাসনামলে প্রয়োজনীয় দুই-তিন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তালিকা করতে বলা হতো তাহলে সেগুলো কী হতো? আমি এটি জিজ্ঞেস করছি কারণ আমাদের সময়টাকে অবিশ্বাস্যভাবে নৈরাশ্যময় ও দমনমূলক মনে হচ্ছে।

নোয়াম চমস্কিঃ আমি মনে করি না যে ব্যাপারটা বিবর্ণ হয়ে গেছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চিত্র হিসেবে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারণার সাফল্যের কথাই ধরুন। আদতে এখানে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে একজন বিলিয়নিয়ার ফাপরবাজ লোক প্রচারমাধ্যমের (উদারপন্থী প্রচার মাধ্যমও তার বালখিল্যতা এবং সেটার বিজ্ঞাপন থেকে আসা রাজস্বে মোহাবিষ্ট হয়) ব্যাপক সমর্থন নিয়ে অতি-প্রতিক্রিয়াশীল রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন জিতে যাবেন।

তারপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একশো বছরের অধিক সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্যান্ডার্সের প্রচারণা একটি নাটকীয় ছেদ ঘটিয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিস্তৃত গবেষণা, উল্লেখযোগ্যভাবে থমাস ফার্গুসনের কাজগুলো দৃঢ়ভাবে দেখিয়েছে যে নির্বাচনগুলো প্রায়শই কিনে নেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেবল প্রচারণার খরচই উল্লেখযোগ্যভাবে নির্বাচনী সাফল্যের একটি উত্তম নির্দেশক, আর এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণের জন্যও কর্পোরেট ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত সম্পদের সমর্থন একটি কার্যকর পূর্বশর্ত।

স্যান্ডার্সের প্রচারণা থেকে দেখা গেছে যে কিছুটা প্রগতিশীল (আদতে নিউ ডিল) কর্মসূচি নিয়ে একজন প্রার্থী মনোনয়ন জিততে পারেন, এমনকি প্রধান আর্থিক সহায়তাকারী কিংবা কোনো প্রচার মাধ্যমের সমর্থন ছাড়া হয়ত নির্বাচনেও জিততে পারেন। এটা মনে করার ভালো কারণ আছে যে ওবামা-ক্লিনটন পার্টির ম্যানেজারদের কারচুপি না থাকলে স্যান্ডার্স মনোনয়ন পেয়ে যেতেন। বর্তমানে তিনি ব্যাপকভাবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

প্রচারণার মধ্য দিয়ে অ্যাক্টিভিজম গড়ে উঠেছে সেটা নির্বাচনী রাজনীতিতে পথ করে নিতে আরম্ভ করেছে। বারাক ওবামার সময়ে ডেমোক্রেটিক পার্টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনেকটা ধসে পড়েছে, তবে একে পুনর্গঠিত করে একটি প্রগতিশীল শক্তিতে পরিণত করা যেতে পারে। এর অর্থ হলো শ্রমিক শ্রেণীকে পরিত্যাগ করে ক্লিনটনীয় নিউ ডেমোক্রেটে পরিণত না হয়ে নিউ ডিলের পরম্পরাকে পুনরুজ্জীবিত করা ও একই সাথে সামনে এগিয়ে যাওয়া। ক্লিনটনীয় নিউ ডেমোক্রেটদের সাথে এক সময়ের মডারেট রিপাবলিকানদের কম-বেশি সাদৃশ্য দেখা যায়। নব্য উদারপন্থার সময়ে উভয় রাজনৈতিক দলের ডানপন্থার দিকে স্থানান্তরের কারণে মডারেট রিপাবলিকানদের এই ক্যাটাগরি অত্যধিকভাবে লীন হয়ে গেছে।

 

প্রথমটির ক্ষেত্রে রিপাবলিকান নেতৃত্ব সারা বিশ্ব থেকে চমকপ্রদভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় সর্বসম্মতভাবে যথাযোগ্য উপায়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা নষ্ট করার জন্য নিবেদিত হয়েছে

 

 

এই ধরনের সম্ভাবনা নাগালের বাইরে নাও হতে পারে, আর এগুলো অর্জনের প্রচেষ্টার সাথে এখন প্রত্যক্ষ অ্যাক্টিভিজমকে যোগ করা যেতে পারে। প্রায়শই নামমাত্র দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির বাগাড়ম্বরের আড়ালে থাকা রিপাবলিকান প্রশাসনের আইন প্রণয়নকারী ও নির্বাহী কার্যক্রমকে প্রতিহত করার জন্য এগুলো জরুরী দরকার।

রিপাবলিকান প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশের প্রতিনিধিত্বকারী পল রায়ানের মতো দেশীয় নীতিমালা অনুসরণ করে দেয়ালের পেছনে ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ক্ষুদ্র আমেরিকা সৃষ্টি করতে ট্রাম্প যে প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, আদতে সেটা মোকাবিলা করার জন্য অনেক উপায় রয়েছে।

জর্জ ইয়ান্সিঃ আমাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ইস্যুগুলো আছে সেগুলো কী?

নোয়াম চমস্কিঃ আমাদের অস্তিত্বের প্রতি যেসব হুমকি দেখা দিয়েছে সেগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, যেমন জলবায়ু পরিবর্তন ও পারমাণবিক যুদ্ধ। প্রথমটির ক্ষেত্রে রিপাবলিকান নেতৃত্ব সারা বিশ্ব থেকে চমকপ্রদভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় সর্বসম্মতভাবে যথাযোগ্য উপায়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা নষ্ট করার জন্য নিবেদিত হয়েছে; কড়া কথা হলেও এতে অতিরঞ্জন নেই। তাদের ক্ষতিকর প্রকল্পকে প্রতিহত করার জন্য স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনেক কিছু করা যেতে পারে।

পারমাণবিক যুদ্ধের ব্যাপারে বলা যায়, সিরিয়ায় ও রাশিয়ার সীমান্তের কর্মকাণ্ডসমূহ খুব গুরুতর সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করেছে যার ফলে অচিন্তনীয় আকারে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। এছাড়া ট্রাম্প কর্তৃক পারমাণবিক শক্তির আধুনিকীকরণে ওবামার কার্যক্রমসমূহ অনুসরণের ফলে অসামান্য বিপদের আশংকা দেখা দিয়েছে। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে জানতে পেরেছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিকীকৃত পারমাণবিক শক্তি আমাদের অস্তিত্বের পাতলা সুতোকে গুরুতরভাবে আলগা করে করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি মার্চে বুলেটিন অফ এটমিক সায়েন্টিস্ট-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনামূলক প্রবন্ধে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে, যেটা প্রথম পৃষ্ঠার খবর হওয়া উচিত ছিলো এবং সেটাই হয়েছে। প্রবন্ধটির লেখকগণ অত্যন্ত সম্মানিত বিশ্লেষক, তাঁদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকীকরণ কার্যক্রমের ফলে “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ব্যালিস্টিক মিসাইল শক্তির সামগ্রিক নিধন ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে— আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র অকস্মাৎ প্রথম আক্রমণ করে শত্রুকে নিরস্ত্র করার মাধ্যমে লড়াই করার সক্ষমতা অর্জন ও পারমাণবিক যুদ্ধে জেতার পরিকল্পনা করলে একজন যা কিছু দেখার প্রত্যাশা করতে পারতো, এর ফলে ঠিক সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

এর তাৎপর্যটি পরিষ্কার। এর অর্থ হলো সংকট মূহূর্তে, যার মধ্যে অনেক কিছুই রয়েছে, সেখানে প্রতিবন্ধক না থাকার দরুণ রাশিয়ার সামরিক পরিকল্পনাকারীরা হয়ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে যে প্রথম আক্রমণই হলো টিকে থাকার একমাত্র আশা— যার মানে দাঁড়ায় আমরা সবাই শেষ হয়ে যাবো।

জর্জ ইয়ান্সিঃ খুবই ভীতিকর ব্যাপার।

নোয়াম চমস্কিঃ এসব ক্ষেত্রে নাগরিক উদ্যোগই পারে অত্যন্ত বিপজ্জনক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া ও ইরানসহ অন্যান্য জায়গায় খুব সহজে শক্তি ও বলপ্রয়োগের আশ্রয় নেওয়ার পরিবর্তে ব্যবহারযোগ্য কূটনৈতিক পন্থা অন্বেষণে ওয়াশিংটনকে চাপ প্রয়োগ করা যেতে পারে।

জর্জ ইয়ান্সিঃ নোয়াম, আপনি তো বড় পরিসরে সংঘটিত অবিচারের বিষয়ে সমালোচক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। কোন জিনিসটি আপনার মধ্যে সামাজিক ন্যায়বিচারের এই বোধের প্রেরণা যোগায়? কোনো ধর্মীয় প্রেরণা কি আপনার সামাজিক ন্যায়বিচারের কাজে সমন্বয় সাধন করে? যদি তা না হয় তাহলে এর কারণ কী?

নোয়াম চমস্কিঃ কোনো ধর্মীয় প্রেরণা নেই এবং যেটা আছে তা হলো নিরেট যৌক্তিকতা। সবচেয়ে বিভীষিকাময় অত্যাচারকে সমর্থন করার জন্য সর্বোচ্চ আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে যে-কেউ কার্যত যেকোনো ধরনের পদক্ষেপে ধর্মীয় প্রেরণার মাধ্যমে ফায়দা হাসিল করতে পারে। পবিত্র গ্রন্থগুলোতে আমরা শান্তি, ন্যায়বিচার ও ক্ষমার জন্য উদাত্ত আহ্বানের পাশাপাশি সাহিত্যিক ধর্মসূত্রে সর্বাধিক জিঘাংসামূলক পংক্তিমালা খুঁজে পেতে পারি। বিবেকই আমাদের একমাত্র পাথেয়, একে আমরা যে সাজপোশাকে আবৃত করতে চাই না কেন।

জর্জ ইয়ান্সিঃ  এত দুর্দশার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার ব্যাপারে ফিরে আসা যাক। আমার গ্র্যাজুয়েট ছাত্রদের অনেকে যাতে আমাদের চেয়েও অধিকতর দুর্দশা প্রত্যক্ষ করার সক্ষমতা বিকশিত করতে পারে, সেজন্য আমার পক্ষ থেকে তাদের সাথে কোন জিনিসটি ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে আপনি পরামর্শ দিবেন? আমার ছাত্রদের অনেকে কেবল গ্র্যাজুয়েট হওয়া নিয়েই চিন্তিত এবং প্রায়শই বিশ্বের দুর্দশার ব্যাপারে তারা বিস্মৃতিপরায়ণ হয়ে থাকে।

নোয়াম চমস্কিঃ আমার মনে হয় নিকটবর্তী অথবা দূরবর্তী প্রান্ত যেখানেই হোক, দুর্দশার প্রতি যারা বিস্মৃতিপরায়ণ হয়, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসচেতন হয়, সম্ভবত মতবাদ ও মতাদর্শের প্রতি অন্ধ হয়ে থাকে। তাদের জন্য উত্তরটি হলো, ধর্মনিরপেক্ষ অথবা ধর্মীয় বিশ্বাসের শর্তগুলোর প্রতি একটি সংশয়বাদী মনোভাব বিকশিত করা; অন্যদের অবস্থান থেকে পৃথিবীকে দেখা, অনুসন্ধান করা, প্রশ্ন করার সক্ষমতাকে উৎসাহিত করা। আর আমরা যেখানেই থাকি না কেন সরাসরি সংস্পর্শ কখনোই বেশি দূরের হয় না— সম্ভবত গৃহহীন লোকটি ঠাণ্ডায় গাদাগাদি করে থাকছে অথবা খাবারের জন্য কিছু টাকা চাইছে, অথবা আরও অনেক কিছু।

জর্জ ইয়ান্সিঃ অন্যদের দুর্দশা যে আমাদের থেকে দূরে নয় সেই ব্যাপারে আমি আপনার কথার কদর করি ও এর সাথে সহমত পোষণ করি। ট্রাম্পের বিষয়ে আসা যাক। আমার মতে, আপনি তাকে মৌলিকভাবে আনপ্রেডিক্টেবল হিসেবে গণ্য করেন। নিশ্চিতভাবে আমিও তাই মনে করি। আমাদের কি বর্তমান সময়ে কোনো ধরনের পারমাণবিক যুদ্ধের ব্যাপারে ভীত হওয়া উচিত?

নোয়াম চমস্কিঃ আমার ভয় হয়, আর আমি একমাত্র ব্যক্তি নই যার এমন ভয় আছে। সম্ভবত এমন উদ্বিগ্নতা প্রকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব হলেন উইলিয়াম পেরি, যিনি সর্বোচ্চ মাত্রার যুদ্ধ পরিকল্পনায় বহু বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অন্যতম নেতৃস্থানীয় সমকালীন পারমাণবিক কৌশলবিদ। তিনি সংযত ও সতর্ক, অতিশয়োক্তি করেন না। তিনি যে একই সাথে চরম ও ক্রমবর্ধমান হুমকিসমূহ এবং এগুলোর ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়ার ব্যর্থতায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছেন, সেটা জোরপূর্বক ও বারবার জানান দেওয়ার জন্য আধা-অবসর ভেঙ্গে এসেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, “আজকে কোনো ধরনের পারমাণবিক দুর্যোগের ভয়াবহতা স্নায়ু যুদ্ধের সময়কার ভয়াবহতার চেয়ে বেশি, আর অধিকাংশ মানুষ এই ভয়াবহতা সম্পর্কে অজ্ঞ।”

প্রলয়রূপী মধ্যরাত থেকে আমরা কত দূরে আছি তার উপর ভিত্তি করে ১৯৪৭ সালে বুলেটিন অফ অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস তার বিখ্যাত প্রলয়-ঘড়ি প্রবর্তন করেছিলো। ১৯৪৭ সালে বিশ্লেষকরা মধ্যরাত থেকে মাত্র সাত মিনিটের দূরত্বে ঘড়িটিকে সেট করেছিলেন। ১৯৫৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণের পর তাঁরা এটাকে মধ্যরাতের দিকে আরও দুই মিনিট এগিয়ে নিয়ে আসেন। তারপরথেকে এটি স্পন্দিত হয়েছে, তবে পুনরায় কখনোই এই সংকট বিন্দুতে পৌঁছেনি। জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেকের পরপরই ঘড়ির কাঁটাটিকে মধ্যরাতের দিকে আড়াই মিনিট এগিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এটি ১৯৫৩ সাল থেকে অদ্যাবধি অন্তিম দুর্যোগের সবচেয়ে নিকটে অবস্থান করছে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্লেষকরা যে কেবল পারমাণবিক যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান হুমকির কথা বিবেচনা করছিলেন তা নয়, বরং পরিবেশগত বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হওয়ার গতিবৃদ্ধি করার জন্য রিপাবলিকান সংস্থার দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও বিবেচনা করছিলেন।

পেরির ভীতসন্ত্রস্ত হওয়ার সঠিক কারণ আছে। আর আমাদেরও ভয় পাওয়া উচিত, বাটনের উপর আঙ্গুল দাবানোর ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিটি ও তাঁর পরাবাস্তব সহযোগীদের জন্য কম ভয় পাওয়া উচিত নয়

জর্জ ইয়ান্সিঃ তারপরও ট্রাম্পের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও তাঁর একটি শক্ত ভিত্তি আছে। এই ধরনের ক্রীতদাসতুল্য আনুগত্য কীভাবে তৈরি হয়?

নোয়াম চমস্কিঃ কয়েকটি কারণে আমি নিশ্চিত নই যে “ক্রীতদাসতুল্য আনুগত্য” কথাটি সঠিক কিনা। উদাহরণস্বরূপ, এর গোড়ায় কারা আছে? অধিকাংশই তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল। তিন-চতুর্থাংশের আয় মধ্যমার (median) চেয়ে বেশি ছিলো। প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বাৎসরিক আয় ছিলো ১০০,০০০ মার্কিন ডলারের অধিক এবং এভাবে তারা ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষ ১৫ শতাংশের মধ্যে ছিলো, যাদের শীর্ষ ৬ শতাংশের আবার শুধুমাত্র হাই স্কুল পর্যন্ত শিক্ষা রয়েছে। তাদের সিংহভাগই শ্বেতাঙ্গ, অধিকাংশই বৃদ্ধ, অর্থাৎ ঐতিহাসিকভাবে আরও বেশি সুবিধাভোগী ক্ষেত্র থেকে আগত।

রাশিয়ার হ্যাকিং কি সত্যিই আমাদের এযাবতকালের আলোচিত বিষয়, যেমন সমগ্র বিশ্বের বিপরীতে গিয়ে সম্মিলিত সামাজিক অস্তিত্বের পরিস্থিতিকে ধ্বংস করার জন্য রিপাবলিকানদের প্রচারণার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ?

অ্যান্থনি ডিম্যাজ্জিও বর্তমানে উপলব্ধ তথ্যের সম্পদের একটি গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের ভোটাররা “অভিজাত, কর্পোরেটপন্থী এবং প্রতিক্রিয়াশীল সামাজিক কর্ম্পন্থা” সমেত সচরাচর রিপাবলিকান হয়, এবং “আয়ের দিক দিয়ে তারা দেশের সমৃদ্ধ, সুবিধাভোগী অংশ, তবে অতীতের তুলনায়, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক ধসের পূর্বেকার সময়ের তুলনায় আপেক্ষিকভাবে কম সুবিধাভোগী,” তাই কিছুটা অর্থনৈতিক দুর্গতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে তাদের মধ্যমা আয় প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এখানে ধর্মপ্রচারকদের বিরাট অংশটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের নিয়ামকসমূহ— যুক্তরাষ্ট্রে গভীরভাবে প্রোথিত— বর্ণবাদ ও লৈঙ্গিক বিদ্বেষকে এক পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

সমর্থকগোষ্ঠীর অধিকাংশের ক্ষেত্রে বলা যায়, ট্রাম্প ও রিপাবলিকান প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বর্বর অংশটি তাদের আদর্শ আচরণ থেকে দূরে নয়। অবশ্য আমরা যখন নির্দিষ্ট কিছু নীতির অগ্রাধিকারের দিকে নজর দেই তখন অধিকতর জটিল প্রশ্নগুলো উঠে আসে।

ট্রাম্পের সমর্থকগোষ্ঠীর একটি অংশ এসেছে শিল্পখাত থেকে, যারা উভয় পার্টি দ্বারা কয়েক দশক ধরে পরিত্যক্ত হয়েছে, প্রায়শই তারা গ্রামীণ অঞ্চল থেকে আগত যেখানে ইন্ডাস্ট্রি ও স্থিতিশীল চাকরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। অনেকে ওবামার প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের বার্তায় বিশ্বাস রেখে তাঁকে ভোট দিয়েছিলো, তবে দ্রুতই তাদের মোহভঙ্গ হয়েছিলো এবং তাদের তিক্ত শ্রেণী শত্রুর প্রতি মরিয়া হয়ে উঠেছিলো। তারা এই আশায় বুক বেঁধেছিলো যে, তাদের আনুষ্ঠানিক নেতা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবেন।

আরেকটি বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে বর্তমান সময়ের তথ্য ব্যবস্থা, যদি কেউ শব্দটি আদৌ ব্যবহার করতে পারে। সমর্থকগোষ্ঠীর অধিকাংশের কাছে ফক্স নিউজ, টক রেডিও ও বিকল্প তথ্যের অন্যান্য অনুশীলনকারীরা হচ্ছে তথ্যের উৎস। ট্রাম্পের কুকর্ম ও অর্থহীনতা তুলে ধরার ফলে উদারপন্থীদের যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, সেটাকে খুব সহজেই অসহায় ব্যক্তির রক্ষাকর্তার উপর দুর্নীতিবাজ এলিট তথা তাঁর নিকৃষ্ট শত্রুর আক্রমণ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়।

জর্জ ইয়ান্সিঃ সমালোচনামূলক বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি এখানে কীভাবে কাজ করে, যেটাকে দার্শনিক জন ডেউয়ি গণতান্ত্রিক নাগরিকবৃন্দের জন্য অপরিহার্য হিসেবে দেখেছিলেন?

নোয়াম চমস্কিঃ সমালোচনামূলক বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আমরা অন্যান্য প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারি। উদারপন্থী মতামত অনুযায়ী আমেরিকার নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ হচ্ছে এই শতাব্দীর রাজনৈতিক অপরাধ, যেটাকে অনেক সময় এভাবেই বলা হয়। এই অপরাধের প্রভাবসমূহ কর্পোরেট ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত সম্পদের হস্তক্ষেপের ব্যাপক প্রভাবসমূহের মতো গোচরীভূত হয় না, যেটাকে অপরাধ হিসেবে তো নয়-ই বরং গণতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকলাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি রাশিয়াসহ বিদেশের নির্বাচনগুলোতে মার্কিন “হস্তক্ষেপের” রেকর্ড; উদ্ধৃতির মধ্যে রাখা “হস্তক্ষেপ” শব্দটিকে বাদ দিয়েই বলছি। কারণ ব্যাপারটা হাস্যকরভাবে এতটাই অপর্যাপ্ত যে, সাম্প্রতিক ইতিহাসের সাথে সামান্যতম পরিচিত যে-কেউ অবশ্যই এই বিষয়ে অবগত থাকবে।

জর্জ ইয়ান্সিঃ এটা নিশ্চিতভাবে আমাদের দেশের অসঙ্গতির কথা জানান দেয়।

নোয়াম চমস্কিঃ রাশিয়ার হ্যাকিং কি সত্যিই আমাদের এযাবতকালের আলোচিত বিষয়, যেমন সমগ্র বিশ্বের বিপরীতে গিয়ে সম্মিলিত সামাজিক অস্তিত্বের পরিস্থিতিকে ধ্বংস করার জন্য রিপাবলিকানদের প্রচারণার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ? অথবা বিনাশকারী পারমাণবিক যুদ্ধের অদ্যাবধি শোচনীয় হুমকি বৃদ্ধির চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ? নাকি কয়েক লক্ষ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করার জন্য এবং রিপাবলিকানদের কর্পোরেট ক্ষমতা ও সম্পদের প্রকৃত নির্বাচন ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করার স্বার্থে নার্সিং হোম থেকে কয়েক লক্ষ মানুষকে বিতাড়িত করতে তাদের গৃহীত পদক্ষেপের মতো বাস্তব অথচ অপেক্ষাকৃত লঘু অপরাধের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ? তাদের প্রিয়পাত্ররা যে আর্থিক সংকট পুনরায় বয়ে নিয়ে আসতে পারে তার প্রভাব হ্রাস করার জন্য প্রতিষ্ঠিত সীমিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে ফেলার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ? এমন আরও কত কী।

কোনো বিভাজকের অন্য পাশে আমরা যাদেরকে দেখি তাদের প্রতি নিন্দা জানানো খুব সহজ। তবে সাধারণভাবে, আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কাছে যাওয়ার পথ অন্বেষণ করা।

 


এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক জর্জ ইয়ান্সি “ব্ল্যাক বডিস, হোয়াইট গেইজেস” ও “অন রেইসঃ থার্টি ফোর কনভারসেশনস ইন এ টাইম অফ ক্রাইসিস” গ্রন্থের রচয়িতা। এছাড়া তিনি “পারস্যুইং ট্রেভন মার্টিন” ও “আওয়ার ব্ল্যাক সানস ম্যাটার” নামক গ্রন্থ দু’টির সহলেখক।

সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন ইমন রায়

Please follow and like us:
Download PDF

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here