দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসাথে

0
1587

যে কোন দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করার ভয়ানক এক সামাজিক ব্যাধির নাম হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতি মানে হচ্ছে অসৎ উপায়ে অন্যের সম্পত্তি নিজের বলে আত্নসাৎ করা, অযোগ্য কাউকে অর্থের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়া, পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে ভালো শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়া সহ অনেক অবৈধ উপায়। United Nations Office on Drugs and Crime (UNODC) বলছে যে দুর্নীতি অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জকে খাটো করে দেখে এবং সকল সাধারণ মানুষের জীবনকে নেতিবাচক মনোভাব দিয়ে প্রভাবিত করে (UNODC, 2012)। জাতি-গোত্র, ধর্ম-বর্ণ, সংস্কৃতিভেদে সকল দেশেই দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে আইনগত কাঙ্ক্ষিত অধিকার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে। ফলে সুষম উন্নয়ন থেকে দূরে সরে যায় গোটা সমাজ, তথা পুরো দেশ। উন্নয়ন নীতিমালায় দেখা যায় উল্লম্ফন কার্যকালাপ। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশে দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রুপ লাভ করেছে। আলী ইমাম মজুমদার তাঁর লেখায় উল্লেখ্য করেছেন যে “আমরা অনেক চড়া মূল্যে এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনাগুলোর মধ্যে ছিল আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর আমাদের অর্জন ও ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করলে দেখা যাবে, শাসনব্যবস্থা কার্যকর হলে অর্জন আরও বেশি হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার আমাদের শাসনব্যবস্থার অংশ হয়ে পড়েছে” (Majumdar, 2014)। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিণত রয়েছে জনগণের হাস্যরসের কেন্দ্রবিন্দুতে। দুদকের নিষ্কৃয়তার ফলে দুর্নীতির নানান ধরণ অনুযায়ী কম বেশি সবাইকে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। কোন ব্যক্তিই দুর্নীতির বিষবাষ্প থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আর সেই জন্যই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে রুখে দাঁড়াতে হবে।

বাংলাদেশের জাগরণঃ

২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী বিশ্বের ২.১৬ শতাংশ তথা ১৫৬০ লক্ষ লোক নিয়ে বাংলাদেশ হচ্ছে সর্বোচ্চ মাথাপিছু জনবসতির দেশ (Khan, 2015)। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক নীতিমালা থেকে মুক্তির জন্য। তথাকথিত “তলানিবিহীন ঝুরি”র বাংলাদেশে গণ-মানুষের জন্য অন্ন-বস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সামগ্রিক উন্নয়ন থেকে এই দেশ অন্য দেশের তুলনায় খুব বেশি অগ্রসর হতে পারেনি। এর পিছনে সব চেয়ে বড় কারণ হিসেবে দুর্নীতিকে দায়ী করা হয় এবং উন্নয়ন কাঠামোতে দুর্নীতি যে কত বড় বাঁধা তারও অজস্র প্রমাণ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পৃথিবীর ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। সকল ধর্মের মানুষ দেশের টানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তথাপি দেশ স্বাধীন হবার সাধারণ জনগণ কখনই মূলধারার রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন নীতিমালার অংশ হতে পারেনি। যদি হতো তাহলে স্বাধীনতার এতো বছর পরেও লক্ষ লক্ষ লোক দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করত না! বাংলাদেশে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাধারণ জনগনের সাথে আমলাতন্ত্রের ব্যবধান। অপরিবর্তিত থেকে গেছে আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির সকল চালচলন। ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে দি ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন বলছে যে দেশের ৭৭.৭ শতাংশ মানুষকে পাসপোর্ট বানানোর সময় দুর্নীতির কবলে পড়তে হয়[1]।দৃশ্যত এটাই প্রতীয়মান হয় যে সাধারণ জনগণকে দুর্নীতি পরায়ণ হতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

একসাথে দুর্নীতির বিরুদ্ধেঃ

বাংলাদেশের যুব সমাজ বিশ্বের বৃহৎ জনগোষ্ঠির অংশ। পৃথিবীর উন্নত দেশে যখন বয়স্ক জনগোষ্ঠীর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাংলাদেশ তখন ১৮-৩০ বছর বয়সী কর্মক্ষম যুবক-যুবতিতে ভরে যাচ্ছে। দেশের সকল প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক বিভাগে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেড়ে চলেছে। ২০১৫ সালের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা জনসংখ্যার ৪ কোটি ৭৬ লক্ষ[2] যা মোট জনসংখ্যার চার ভাগের একভাগ এবং এই হার প্রতি বছরে ক্রমবর্ধমান। এই বিশাল যুব সমাজকে একত্রিত করার মধ্য দিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব। স্বাধীনতার আগের বাংলাদেশের প্রধানতম আন্দোলন ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং এর রেশ ধরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। বর্তমান সময়েও যুব সমাজ বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্দোলন করে ফলাফল ঘরে তুলেছে। সেই বিচারে প্রথমে বলতে হয় ৯০ এর স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলন তথা নূর হোসেনের আত্নত্যাগ, শাহবাগের গণজারণ মঞ্চ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে যুব সমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণ। সেই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি প্রতিরোধে যুব সমাজের একসাথে কাজ করার কোন বিকল্প নেই। যুব সমাজকে কিছু ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে হবে।

আইনগত ভিত্তিঃ

বাংলাদেশে তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ ২০০৮ রয়েছে যেখানে বলা হয়েছে “যেহেতু জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হইলে সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাইবে, দুর্নীতি হ্রাস পাইবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হইবে”, সেহেতু বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করেছেন।  একই সাথে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এ সমরুপ জবাবদিহিতামূলক কার্যবিধির কথা উল্লেখ করা আছে। অধ্যাদেশ আর আইনের অধীনে বাংলাদেশের যে কোন সাধারণ নাগরিক তথ্য চেয়ে আবেদন করতে পারে। এবং তথ্য দিয়ে সাহায্য করার সকল আইনানুগ ব্যবস্থা অধ্যাদেশ ও আইনে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এই আইনসমূহ হতে পারে দুর্নীতি প্রতিরোধে সব চেয়ে কার্যকর আইনী মাধ্যম। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০০৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে তথ্য অধিকার আইন কার্যকর হয়েছে যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি, কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা, সরকারি কাজে দুর্নীতি কমিয়ে গণতান্ত্রিক চেতনাকে ত্বরান্বিত করা ( (RTI, 2005)। এই আইনটি পাস হবার পর ভারতের জন-সাধারণের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে আইনটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের ক্ষেত্রে সক্রিয় করবে, তথ্য অধিকার আইন দেখে ভয় পাবে, নিয়মমাফিক অফিস করবে, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে, অভিযোগ বা নালিশ পেলে দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করবে, সকল কার্যকালাপের নথি সংরক্ষণ করবে, এবং দুর্নীতি হ্রাসে উৎসাহী হবেন (Srivastava, 2010) বাংলাদেশের যুব সমাজ চাইলেই দুর্নীতির চিহ্নিত ক্ষেত্রসমূহ থেকে তথ্য চেয়ে আবেদন করতে পারে। একটি আবেদনের ফলাফল সারা দেশে মানুষের চিন্তা-চেতনায় মারাত্নক প্রভাবক-পরিবেশ তৈরি হতে পারে। জনস্বার্থে রিট আবেদন করে তথ্য দিতে বাধ্য করার মধ্য দিয়েই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব।

Niamot a

Figure 1: Together against corruption (TI, 2015) 

দুদকের ভূমিকাঃ

দুদক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যেমে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য” (ACC, 2015)। ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান দেশের সকল পর্যায়ে দুর্নীতি দমনে একমাত্র স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই কমিশনের ক্ষমতা রয়েছে অধীক। কমিশন তার উপর অর্পিত ক্ষমতাবলে যে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। মাঝে “দুদক আইনে নতুন সংযোজিত ৩২ ধারা যুক্ত করা হয় যেখানে কোনো জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা পাবলিক সার্ভেন্টকে অভিযুক্ত করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা অনুসরণ করতে হবে” এমন সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এক জনস্বার্থ মামলার রিটে হাইকোর্ট বিভাগ বিধানটি বেআইনি ও বৈষম্যমূলক বলে বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদক আরো বেশি ক্ষমতা পেয়েছে।

চিত্রঃ দুর্নীতি প্রতিরোধে একসাথে সবাই (লেখক)

Niamot 1

আমলাতন্ত্রের সংস্কারঃ

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে আমলাতন্ত্র মানে হচ্ছে “লাল ফিতার দৌরাত্য”। অনেকের মতে এই প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ব্যতীত দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। একই সাথ বাস্তবতা হচ্ছে স্বাধীনতার পর গঠিত আঠারটি কমিশনের কোনটিরই কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি, উপরন্তু প্রশাসনের ভারসাম্য নষ্ট করেছে অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত, ফলে ক্রমান্বয়ে ঝিমিয়ে পড়েছে প্রশাসনযন্ত্র (দৈনিক জনকণ্ঠ[3])। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে আমলাতন্ত্রের সংস্কার অতি জরুরি। এই প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। না হলে আমলাতন্ত্র থেকে যাবে প্রাচীনপন্থী। কালক্রমে আরো বিকারগ্রস্ত, দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠবে আমলাতন্ত্র। একই সাথে প্রয়োজন গণতান্ত্রিক ভাবধারায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলের। গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাবে আমলারা হয়ে উঠেন সর্বেসর্বা। অন্যদিকে, আমলাতন্ত্রে গণতন্ত্র না থাকলে রাজনৈতিক গণতন্ত্রও আশা করা যায় না (দৈনিক নয়া দিগন্ত[4])।

উপসংহারঃ

প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ হচ্ছে সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। অনেকটা “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে”- রবীন্দ্রনাথের এই গানের বাণীর মত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি এখন রূপকথায় পরিণত হচ্ছে। কোথাও কোন সরকারি-বেসরকারি কার্যাবলীর জবাবদিহিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সুরক্ষিত করা যাচ্ছে না সাধারণ মানুষের অধিকার। অভিজ্ঞতার ঘাটতিকে পুঁজি করে দুর্নীতি প্রতিরোধক আইন বাস্তবায়ন করা এখন প্রায় অসম্ভব! কিন্তু এই বৈষম্য বেশি দিন চলতে পারে না। দুর্নীতি মোকাবেলা করে ন্যায়ের মানদণ্ড সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী গণ-আন্দোলন। পরস্পরের সাথে জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার পথে অগ্রসর হতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি এখন পারিবারিক, সামাজিক সচেতনতা তৈরির বড় মাধ্যম।  এই মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে কৌশলগত দক্ষতা অর্জনের পথে অগ্রসর হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ডিজিটাল কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর সব কাজ একা একা করা যাবে না। সেই জন্য প্রয়োজন একীভূত যুব সমাজ। যুব সমাজের ন্যায়-নীতির কাছে সকল অন্যায় ভেসে যেতে বাধ্য।

তথ্যসূত্র সমূহঃ

Khan, Azizur Rahman. 2015. The Economy of Bangladesh: A Quarter Century of Development. London: Palgrave Macmillan.

Majumdar, Ali Imam. 2014. http://prothomalo-online.blogspot.in/2014/02/by_358.html

Right to Information Act 2005. The Government of India. http://www.rti.gov.in/

Srivastava, Smita. 2010. The Right to Information in India: Implementation and Impact. Afro Asian Journal of Social Sciences. Volume 1: 1 Quarter IV.

The Daily Janakantha, https://www.dailyjanakantha.com/details/article/169478/

The Daily Naradiganta, http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/99072

The Daily Star.  http://www.thedailystar.net/frontpage/passport-most-corrupt-sector-1247986

TOGETHER Civil Society and the Private Sector.

Transparency International. 2015. Together Against Corruption Transparency International Strategy 2020. Berlin, Germany.

Untited Nations Office on Drugs and Crime (UNODC). FIGHTING CORRUPTION

Author: Niamot Ali Enayet, Enayet is doing MA Sociology at the South Asian University, New Delhi, India. He also graduated from Department of Development Studies, University of Dhaka, and worked as a Research Associate. He can be reached at niamot.enayet@gmail.com.

[1] http://www.thedailystar.net/frontpage/passport-most-corrupt-sector-1247986

[2] http://www.thedailystar.net/rise-of-youth-51048

[3] https://www.dailyjanakantha.com/details/article/169478/

[4] http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/99072

Please follow and like us:
Download PDF

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here